দিলীপ ঘোষের দাবি সত্য প্রমাণিত করে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ক্রস ভোটিং

কলকাতা, ২১ জুলাই

 সত্যি প্রমাণিত হল বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ শাখার সভাপতি দিলীপ ঘোষের মন্তব্য| রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে এরাজ্যের বিধানসভায় ক্রস ভোটিংয়ের প্রমাণ মিলল| বৃহস্পতিবারই দেশের চতুর্দশ রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন রামনাথ কোবিন্দ| বিরোধী প্রার্থী মীরা কুমারকে হারিয়ে ৬৫.৬৫ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন এনডিএ-এর রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী রামনাথ কোবিন্দ | পশ্চিমবঙ্গ থেকে ১১ বিধায়কের ভোট পেয়েছেন রামনাথ কোবিন্দ| যা দিলীপ ঘোষের দাবিকে সত্যি প্রমানিত করেছে| উল্লেখ্য পশ্চিমবঙ্গেই সবচেয়ে বেশি ক্রস ভোটিং হয়েছে| শুধু তাই নয় সারা দেশের মধ্যে এরাজ্য থেকেই সবচেয়ে বেশি ভোট বাতিল হয়েছে| রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে বাতিল হয় ১০টি ভোট| যা অন্য ইঙ্গিত বহনকরছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা|

 প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফলে দেখা গেছে, এনডিএ প্রার্থী রামনাথ কোবিন্দ ৬৬.৬৫ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হয়ে চতুর্দশ প্রেসিডেন্ট হয়েছে| তিনি পেয়েছেন ২৯৩০ জনের ভোট| যার মোট ভোট মূল্য ৭,০০,২৪৪| অন্যদিকে বিরোধীদের সম্মিলিত প্রার্থী মীরা কুমার পেয়েছেন ৩৪.৩৫ শতাংশ ভোট| তিনি পেয়েছেন ১৮৪৪ জনের ভোট, যার ভোট মূল্য ৩,৬৭,৩১৪|তবে মীরা কুমার পরাজিত হলেও তিনি ১০টি রাজ্যে শাসক দলের প্রার্থীর চেয়ে অনেক বেশি ভোট পেয়েছেন| বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, ভোটের ফল থেকে অনুমান করা হচ্ছে, ব্যাপক ক্রস ভোটিং হয়েছে একাধিক রাজ্যে| মূলত বিরোধী শিবিরের লোকজন মীরার বদলে কোবিন্দকে ভোট দিয়েছেন |

 গত ১৭ জুলাই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দিন বিধানসভায় রাজ্য বিজেপি সভাপতি এই ক্রস ভোটিং-এর কথাই বলেছিলেন | ওই দিন বিধানসভায় ভোট দিতে এসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, আসল ভোটের চেয়ে ক্রস ভোটিং বেশি হবে| আগেও হয়েছে| এবারও হবে| তবে এবার আরও বেশি ক্রস ভোট হবে|

 গতকাল নির্বাচনের ফল প্রকাশ হলে দেখা যায় কোবিন্দ ১১টি ভোট পেয়েছেন পশ্চিমবঙ্গ থেকে| এর মধ্যে বিজেপির ৩ বিধায়ক ও গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার ৩ বিধায়কের ভোট রামনাথের পাওয়ার কথা ছিল ৬টি ভোট | কিন্তু, তিনি ৫টি অতিরিক্ত ভোট পাওয়ায় প্রমাণিত হল, রাজ্য বিধানসভায় ক্রস ভোটিং হয়েছে| যার মানে দাঁড়াচ্ছে বাম-কংগ্রেস-তৃণমূল বিধায়কদের মধ্যেই কেউ কেউ এনডিএর-এর রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন|

চমক শুধু ক্রস ভোটিংয়েই শেষ হয়নি| পরিসংখ্যান বলছে, পশ্চিমবঙ্গের ১০জন বিধায়কের ভোট বাতিল হয়েছে| গোটা দেশে বাতিলের সংখ্যাটা যেখানে ২১, সেখানে ১০জনই এই রাজ্যের| এই তথ্য সামনে আসার পর আলোচনায় উঠে এসেছে একটিই প্রশ্ন, যাঁরা নিজেদের জোটের প্রার্থী মীরাকুমারকে ভোট না দিয়ে কোবিন্দকে ভোট দিয়েছেন তাঁরা কি উদ্দেশ্যে তা করেছেন| আবার যে ১০ জনের ভোট বাতিল হয়েছে তার পেছনে কি কোনও গোপন ইচ্ছা কাজ করেছে, সেই  প্রশ্ন নিয়েও রাজ্যরাজনীতি আলোড়িত| অনেকে এই দুইয়ের মধ্যে যোগসুত্র খোঁজার চেষ্টা করছেন|

 রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস সহ বাম-কংগ্রেস অবিজেপি রাজনৈতিক দলগুলি যতই কেন্দ্র সরকার বিরোধী সুর চড়াক না কেন তাদের মধ্যেও যে বিজেপি তথা কেন্দ্রের সরকারের প্রতি অনুরাগ জন্ম নিচ্ছে তা প্রমাণ করল এই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন| তবে যতই চেষ্টা করা হোক না কেন, যে অবিজেপি বিধায়করা ক্রস করে মোদী সরকারের প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন, তাঁদের নাম জানা সম্ভব নয়| কারণ, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন গোপন ব্যালটে হয়| তবে, এটা বলাই যায় যে এই ঘটনা ঘিরে শুরু হয়েছে চাপানউতোর|

 রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রেসিডেন্ট  নির্বাচনে অবশ্য কোনও দলই তাদের বিধায়ক বা সংসদ সদস্যকে নিজেদের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার জন্য বাধ্য করতে হুইপ জারি করতে পারে না| তাই ক্রস ভোটিং করা বিধায়কদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও কোনও সুযোগ নেই|

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s